Header Ads Widget

বর্ষাকালে ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় হাওরসমূহ

বর্ষাকালে ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয় হাওরসমূহ

বর্ষাকালে ভ্রমণের জন্য অনেকেই পানি বেষ্টিত অঞ্চল বেছে নেন। সে হিসেবে যে কোনো হাওর অন্যতম পছন্দ হতে পারে। তাই তো প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাওরে ছুটে যান ভ্রমণপিপাসুরা। এ সময় হাওরের চারদিকে থাকে অথৈ পানি। বাংলাদেশে বিভিন্ন রকম জলাধার আছে, যার মধ্যে অন্যতম হাওর। এর মধ্যে ভ্রমণগন্তব্য হিসেবে কিছু হাওর বিশেষভাবে বিখ্যাত।

টাঙ্গুয়ার হাওর

সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলায় অবস্থিত টাঙ্গুয়ার হাওর প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। ভারতের মেঘালয়ের খাসিয়া ও জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই হাওর সারি সারি হিজল-করচ গাছ, পাখিদের কলকাকলি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত।

বর্ষাকালে পুরো হাওর পানিতে ডুবে থাকে। টাঙ্গুয়ার হাওর মাছ, পাখি এবং অন্যান্য জলজ প্রাণীর বিশাল অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচিত। এর প্রধান দুটি পাখির অভয়ারণ্য হলো লেউচ্ছামারা বিলবেরবেড়িয়ার বিল। হিজল-করচের মনোমুগ্ধকর সারি হাওরটির সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

যেভাবে যাবেন

সুনামগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে রিকশায় করে সাহেববাজার ঘাট যেতে হবে। বর্ষাকালে সাহেববাজার ঘাট থেকে ইঞ্জিন বোট বা স্পিড বোটে টাঙ্গুয়ার হাওরে পৌঁছানো যায়। রাতে থাকার পরিকল্পনা থাকলে নৌকা ভাড়া করে প্রয়োজনীয় বাজারসদাই সঙ্গে নিয়ে নেওয়া ভালো। লোকাল ট্রলার, ইঞ্জিনচালিত নৌকা কিংবা বিলাসবহুল বোট ভাড়া করা যায়। ভাড়া করার আগে অবশ্যই দরদাম করে নেবেন।

হাকালুকি হাওর

হাকালুকি হাওর বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ হাওর এবং এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম মিঠাপানির জলাভূমি। এর আয়তন প্রায় ১৮ হাজার ১১৫ হেক্টর, যার মধ্যে বিলের আয়তন ৪ হাজার ৪০০ হেক্টর। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা ও কুলাউড়া এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা জুড়ে এর বিস্তৃতি।

উত্তরে ভারতের মেঘালয় পাহাড় এবং পূর্বে ত্রিপুরা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত এই হাওর উজানের পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রায়ই আকস্মিক বন্যার সম্মুখীন হয়। এখানে ৮০ থেকে ৯০টি ছোট-বড় বিল রয়েছে এবং প্রচুর মৎস্যসম্পদ পাওয়া যায়। জোছনা রাতে বিল এলাকায় তাঁবু ফেলে ক্যাম্পিং করা ভ্রমণকে স্মরণীয় করে তোলে।

যেভাবে যাবেন

প্রথমে মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা রিকশা ভাড়া করে সরাসরি হাওরে যাওয়া যায়। রাতযাপনের জন্য বিল ইজারাদারদের কুটিরে অনুমতি নিয়ে থাকা সম্ভব। নৌকার মাঝির সঙ্গে কথা বলে বাজার করলে মাঝিই রান্নার ব্যবস্থা করে দিতে পারে। ভ্রমণের সময় বিস্কুট, চা, পাউরুটি ও পর্যাপ্ত খাবার পানি সঙ্গে রাখা উচিত।

নিকলী হাওর

কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলায় অবস্থিত নিকলী হাওর দেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি এবং জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। নিকলী ছাড়াও এর বিস্তৃতি মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। ঢাকা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১১০ কিলোমিটার।

ঢাকার সঙ্গে সহজ সড়ক ও রেল যোগাযোগ থাকায় নিকলী হাওর পর্যটকদের কাছে বিশেষ জনপ্রিয়। এখানে একাধিক আবাসিক হোটেল গড়ে উঠেছে, ফলে পর্যটকরা কয়েকদিন অবস্থান করে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাস নিকলী হাওর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

যেভাবে যাবেন

প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে পৌঁছাতে হবে। এরপর কালিয়াচাপড়া সুগার মিল এলাকা থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে নিকলী হাওরে যাওয়া যায়, সময় লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এছাড়া পুলের ঘাট হয়ে গেলে আধাঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব। নিকলীতে থাকার জন্য বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। অনেক পর্যটক সারাদিন হাওর ভ্রমণ করে সন্ধ্যায় নিজ গন্তব্যে ফিরে যান।

Post a Comment

0 Comments